কৃষি তথ্য সার্ভিসই প্রথম গ্রাম পর্যায়ে ৪৯৯টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ে কৃষি তথ্য প্রযুক্তিকে কৃষক ব্যবহার উপযোগী আকারে কৃষকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র সম্পূর্ণ কৃষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের লক্ষ্য হলো কৃষকের চাহিদামাফিক আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বা তথ্য সময়মতো কৃষক বা কৃষি সংশ্লিষ্টদের কাছে সহজলভ্য করা।
বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থার আর্থিক সহযোগিতায় প্রতিটি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র বা এআইসিসিতে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, ওয়েবক্যাম, ক্যামেরা, মাল্টিমিডিয়া, সাউন্ড সিস্টেম, মোবাইল ফোন সেট, মোবাইল ফোনের সিম, ইন্টারনেট মডেম (সিমসহ), স্ক্রিন, স্ক্যানারসহ যাবতীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সরবরাহ দেয়া হয়েছে। এআইসিসিতে কৃষক ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি কৃষিবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষক এসব তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগ্রহ করে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র বা এআইসিসির সদস্য ও প্রতিবেশী কৃষকের মাঝে পৌঁছে দেন। এছাড়া বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি সংবলিত বুকলেট, লিফলেট, ফোল্ডার, পোস্টার, ম্যাগাজিন, ডকুড্রামা, ডকুমেন্টারি ফিল্ম, ফিলার, কৃষিবিষয়ক চলচ্চিত্র কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র বা এআইসিসির মাধ্যমে কৃষকের কাছে সরবরাহ করা হয়। এর মাধ্যমে কৃষক কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য সেবা পেয়ে থাকেন। তাছাড়া দেশে জরুরি মুহূর্তে যেমনÑ খরার সময় করণীয়, বন্যায় করণীয়, ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের পর করণীয়Ñ এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কী কী করা উচিত সেসব বিষয়ে এআইএসের ওয়েবসাইটে তথ্য সরবরাহ করা হয়। এসব তথ্য কৃষক সংগ্রহ করে উপকৃত হতে পারেন। অপর পক্ষে কৃষিবিষয়ক কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ক্লাবের সদস্যরা সরবরাহকৃত মোবাইলের সাহায্যে এআইএসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে সমাধান নেন। কৃষিবিষয়ক সমস্যা মুখে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা না গেলে বা ই-মেইলে সঠিক বিবরণ তুলে ধরা সম্ভব না হলে ওয়েব ক্যামেরা সাহায্যে ছবি তুলে রোগাক্রান্ত বা পোকায় আক্রান্ত ফসলের ছবি, পুষ্টির অভাবজনিত লক্ষণ ছবিসহসহ ই-মেইল করতে পারেন বা ওয়েব ক্যামের সামনে সমস্যা-বস্তুটি নিয়ে এসে সরাসরি ছবি দেখিয়ে ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পেতে পারে। কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ছাড়াও এলাকার জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তারা অন্যান্য তথ্য যেমন-চাকরির বিজ্ঞপ্তি, কৃষি পণ্যের বাজারদর, আবহাওয়া বার্তা, বিভিন্ন পরীক্ষার ফল, সরকারি বিভিন্ন অফিসের ফরম, পাসপোর্ট, সরকারি গেজেট ইন্টারনেটের মাধ্যমে পেতে পারেন।
কৃষকের কাছে সার সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কৃষি তথ্য সার্ভিস, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় প্রতিটি এআইসিসিতে সার সুপারিশমালা প্রিন্ট করে কৃষকের হাতে তুলে দেয়া হয়। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সার সুপারিশ করার লক্ষ্যে একটি সফটওয়ার তৈরি করেছে যার মাধ্যমে যে কোনো স্থানের মাটি সম্বন্ধে কিছু মৌলিক তথ্য যেমনÑ ইউনিয়নের নাম, উপজেলার নাম, ভূমির শ্রেণি (উঁচু, মাঝারি উঁচু, মাঝারি নিচু, নিচু, অতি নিচু), চাষের সময়, ফসলের ধরন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রভৃতি ব্যবহার করে এবং ওই জমির উর্বরতা মান অথবা সরাসরি পুষ্টি উপাদানের ভ্যালু বসিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে ফসলওয়ারি সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। ফলে কৃষক এখন তাদের কাছের এআইসিসি থেকে অতি সহজেই তাদের জমিতে ফসলওয়ারি কোন সার কি পরিমাণ প্রয়োজন তা জেনে সে অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারবে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করা যাবে সাথে সাথে সারের অপচয়ও রোধ করা যাবে।
Grosery store
Best accounting department in Bangladesh
It has discovered me.
It's a lovely place