ঘুরতে গিয়েছেন কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটায়, হোটেলে উঠেছেন?
দেখুন কি অভিনব পন্থায় ভিজিটরদের কাছ থেকে হোটেল মালিকরা টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে!
#একটি_সতর্কতামুলক_পোস্ট।
২৮ তারিখ বিকেলে আমরা ৯ জন বন্ধু ৩টা মোটর সাইকেল নিয়ে কুয়াকাটা যাই। অনেক খোজাখুুজির পর হোটেল না পেয়ে আমরা শিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাস এ ভিলা পাই। রিসোর্টটি অনেক সুন্দর। গুগল করে দেখতে পারেন। ১৭৫০০ টাকা ভিলার(ডুপ্লেক্স) ভাড়া। শিকদার সাহেবের বাড়ি শরিয়তপুর আর আমাদের সবার বাড়ি শরিয়তপুর হওয়ায় আমাদের ডিস্কাউন্ট দিয়ে ১০০০০ টাকায় ভিলা ভাড়া দেয়। তো আমরা খুব খুশি হই। রিসোর্টের ভিউ অনেক সুন্দর। আমরা সবাই নিজেদের মত ঘোরাঘুরি করি। সব কিছুই ছিল আনন্দের। কিন্তু সকল আনন্দ নিমিষেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পানির মত ঘোলা হয়ে যায়। চেক আউটের সময় আমরা যখন রেস্টুরেন্ট বিল দিয়ে রুমে এসে সব কিছু নিয়ে বের হয়ে গাড়িতে উঠি তখন ম্যানেজার আমাদের রুম চেক করতে ঢুকে সাথে সাথেই বেড় হয়ে গাড়ি থামিয়ে বলে আপনারা তো ছোফা পুড়িয়ে দিয়েছেন। একটু দাড়ান। আমরাতো হতবাক। তারপর যেয়ে দেখি আসলেই পোরা। দেখে মনে হচ্ছে সিগারেটের আগুনে পোড়া। কিন্তু আমারাতো বিশ্বাসই করতে পারছি না। কারন আমাদের যারা সিগারেট খায় তাদের কেউই রাতে সোফায় বসে সিগারেট খায়নি। সবাই উপরের বেল্কনি আর নিচে ভিলার বাইরে পুলের পাসে বসে সিগারেট খেয়েছে। আর সোফার কভার ছিল রেক্সিন টাইপের। এই কভার যেমন তেমন আগুনে পোরার কথা না। আমরা প্রথমে বুঝিয়ে বলি কিন্তু ম্যানেজার আমাদের সাথে রাফ ব্যবহার শুরু করে দেয়। উনি আমাদের সবাইকে জি.এম. এর কাছে নিয়ে যায়। জি.এম. আমাদের ২০,০০০ টাকা জরিমানা দিতে বলে। না হলে ৫০,০০০ টাকা দিয়ে সোফা নিয়ে যেতে বলে । জি.এম. এর রুম থেকে বের হয়ে আমরা ম্যানেজারকে অনেক রিকোয়েস্ট করি কিছু কম রাখার জন্য সে বলে তার কিছু করার নেই এখানে। আমাদের সবার মাথায় হাত।
ঘুরে কেনাকাটা করে আমাদের সবার কাছে মিলে মাত্র ৩০০০ টাকার মত ছিল, যেই টাকা দিয়ে আমাদের গাড়িতে তেল নিতে হবে, দুপুরে খেতে হবে এবং রোড খরচ করতে হবে। বলে রাখা ভালো শরিয়তপুর থেকে কুয়াকাটা ২০০ কিলো রাস্তা। তারপর আমরা জি.এম. স্যারের কাছে একটু সময় চেয়ে বাইরে আসি। ততক্ষনে ওরা গেইটে ফোন করে যাতে আমাদের বের হতে না দেয়া হয়। আমারা সবাই খুব চিন্তায় পরে যাই। তখন এক ভিলার কর্মচারি আমাদের কথা শুনে, তাকে সরতে বললে সে তেরে আসে মারতে, আমাদের হুমকি দেয়, বলে কুয়াকাটা এরিয়া থেকে বেড় হতে দিবে না, হাত পা কেটে রেখে দিবে, আরও মুখে যা আসছে বলছে, আমরা সবাই চুপ ছিলাম কারন আমরা ওখানে কিছু চিনিনা।
তারপর শুরু হল বাসায় ফোন দেওয়া। কেউ বাসায়, কেউ বড় ভাইকে ফোন দিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে ২০০০০ টাকা বিকাশে নিয়ে একজনকে পাঠাই ক্যাশ আউট করতে। তারপর নগদ ২০০০০ টাকা দিয়ে বের হই।
আমরা সবাই আল্লাহ্কে সাক্ষি রেখে বলতে পারি, আমারা কেউ এইকাজ করিনি, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে এটা কিভাবে সম্ভব? আর চেক আউটের সময় আমরা রুমের বাইরে ছিলাম, ম্যানেজার রুমে ঢুকে শুরুতেই কিভাবে এইটা খুজে পেল, সে রুমে ঢুকে সাথে সাথে আমাদের ডাক দিয়ে এইটা দেখায়। দুপ্লেক্স ভিলার সব কিছু থাকতে উনর শুরুতেই কিভাবে এইটা চোখে পরল?
সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে আমরা শরিয়তপুরের পথে যাত্রা শুরু করি।
সবাইকে বলছি, শিকাদার রির্সোট দেখতে যতটা সুন্দর তার পেছনে চলে অনেক নোংরা খেলা, যার শিকার আমরা। দয়া করে সাবধান হবেন। যাওয়ার আগে একবার অন্তত ভাবুন।
Beautiful..& nice
awesome!
One of theBest Holiday Resort I have ever visited.