আজ হতে শতাধিক বৎসর পূর্বে ১৯০২ ইং সনে ঐতিহ্যবাহী বিশিষ্ট ব্যবসায়ীক এলাকায় তৎকালীন শিক্ষানুরাগী ও বিদ্যাৎসাহী কতিপয় ব্যক্তির উদ্যোগে সাতকানিয়া থানার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত পশ্চিম ঢেমশা ও রূপকানিয়া ইউনিয়নের প্রান্ত সীমার মিলিত স্থানে চির অম্নান আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে গড়ে উঠে দক্ষিণ চট্টলার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুল।এ বিদ্যালয়ের সৃষ্টি লগ্ন থেকে যাদের অবদান লোকমুখে শোনা যায়,তাদের মধ্যে পন্ডিত মরহুম দলিলুর রহমান,আলহাজ্ব মরহুম আহমদ কবির চৌধুরী, মরহুম দানু মিয়া চৌধুরী এবং নাম না জানা আরও কতিপয় ব্যক্তি থাকতে পারে বলে বিজ্ঞ মহলের ধারণা। প্রায় ৪.৩৭ একর ভূমির উপর দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয় ও অফিস ভবন,ছাত্রাবাস, প্রধান শিক্ষকের বাস ভবন,পুকুর এবং খেলার মাঠ। যেটা বর্তমানে সাতকানিয়া উপজেলা স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। বিদ্যালয়টির দখলে থাকা এত জায়গা জমি অতীতে কে বা কারা দান করেছেন বা কাদের জমি ছিল তা আমরা আজও পর্যন্ত জানতে সক্ষম হইনি। ধারণা করা হচ্ছে যে,রাজ চন্দ্র নামক কোন হিন্দু ভদ্র লোক বা তার পূর্ব পুরুষেরা বা পরবর্তী প্রজন্মরা উক্ত জায়গা জমি বিদ্যালয়কে দিয়ে গেছেন। দান করে গেছেন বলতে পারছিনা,কারণ দান পত্রের কোন রেকর্ড পত্র আজও পর্যন্ত পাওনা যায়নি। অত্র বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সম্মানিত ব্যক্তিগনের মধ্যে হচ্ছেন-মরহুম দলিলুর রহমান,আলহাজ্ব মরহুম আহমদ কবির চৌধুরী, মরহুম আলহাজ্ব মোজাফফর (মোক্তার) চৌধুরী,প্রয়াত এডভোকেট কামিনী রায়,আলহাজ্ব মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরী,সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইব্রাহীম বিন খলিল চৌধুরী,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব মোজাফফর আহমদ চৌধুরী এবং সময়ে সময়ে তৎকালীন সার্কেল অফিসার বৃন্দ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ,সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আরও অনেক নাম না জানা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন এডভোকেট জনাব জহির উদ্দিন। এর পূর্বে যিনি পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সভাপতি পদে নিয়োজিত ছিলেন তিনি হচ্ছেন মরহুম অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বাদশা।
যতটুকু জানা যায় প্রথমে বিদ্যালয় গৃহটি ছিল বেড়ার টিনের ছাউনী। পরে পূর্ব পশ্চিম বিস্তৃত প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা সেমি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমান বিদ্যলয়ের অফিস ভবনের স্থলে ছিল টিনের ছাউনি মাটির ঘর। যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলত। পরে প্রাথমক বিদ্যালয়টি উত্তর পূর্ব কোনায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে পশ্চিম প্রান্তে উত্তর দক্ষিণ বিস্তৃত শ্রেণি কক্ষ,গ্যালারি ও বিজ্ঞানাগার সমেত দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করার পর বিদ্যালয় গৃহটি ইংরেজী অক্ষর প্রায় ইউ আকৃতির হয়ে যায়। মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে উপজেলা সড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে স্থিত যে,জায়গাটিতে বর্তমানে মার্কেট তৈরী করা হচ্ছে সেটি ছিল টিনের ছাউনী মাটির ঘর।
বিদ্যালয় মসজিদের সামনে একটি গভীর নলকূপ ছিল। যেটি থেকে অনবরত পানি পড়ত,পানি ছিল বিশুদ্ধ,পরিষ্কার ঠান্ডা খাবার পানি। বিদ্যালয়ের পুকুরের পানিও ছিল খুব স্বচ্ছ,যা এখনও ঐ রক্ম আছে বলা যায়। পুকুরের উত্তর পাড়ে অবস্থিত প্রধান শিক্ষকের জন্য সেমি পাকা ভবনটি বাসা হিসাবে নির্ধারিত রয়েছে। প্রায় ১৯৮১ সালের দিকে বিদ্যালয়টি পাইলট স্কিম ভুক্ত হলে সরকারি অনুদানে ২টি কারিগরী ভবন নির্মিত হয় এবং অনেক সরঞ্জামাদি পাওয়া যায়। তখন বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় সাতকানিয়া আর্দশ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের একেবারে উত্তর প্রান্ত সীমায় ছিল ছাত্র-শিক্ষকদের টয়লেটের ব্যবস্থা।যা এখনও ছাত্রদের জন্য বিদ্যমান আছে। উত্তর পশ্চিম প্রান্তে বর্তমানে রয়েছে শিক্ষক নিবাস নামে পরিচিত ত্রি-কক্ষ বিশিষ্ট একতলা পাকা ভবন ও ছাত্র শিক্ষকদের জন্য ক্যান্টিন। বর্তমান অফিসের পূর্ব পার্শ্বে পুকুর পাড়ে উত্তর দক্ষিণ বিস্তৃত নির্মিত পাকা ভবনটির স্থলে ছিল বিদ্যালয়ের ফলজ,বনজ,ঔষধি গাছ ও ফুলের বাগান।