it is a amazing place.
বাংলাদেশের খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার লবণচরা থানাধীন মাথাভাঙ্গা গ্রামে সনাতন হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের বসবাস এ গ্রামের জন্মলগ্ন থেকেই। এক সময় এ গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই সনাতন হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও এখানে বসবাস শুরু করেন। এখানে বসবাসরত অধিকাংশ হিন্দুই পরমব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মতবাদে বিশ্বাসী। বংশপরম্পরায় এ গ্রামের অধিবাসীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সনাতন হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় নিজেদের সর্বদা ব্রতী রেখেছেন। প্রাচীন কাল থেকে এ গ্রামের সকলে মিলে অস্থায়ী মন্দির ও বিগ্রহ নির্মাণ করে শ্রীশ্রী শ্যামা মা, শ্রীশ্রী শীতলা মা ও শ্রীশ্রী বাসন্তী মায়ের পুজা উদযাপন করে আসছেন। এছাড়া প্রতি ঘরে ঘরে শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা, শ্রীশ্রী সরস্বতী মা, শ্রীশ্রী লক্ষ্মী মায়ের পুজা এবং পহেলা বৈশাখ, পৌষ পার্বন, কার্তিক সংক্রান্তি, চৈত্রসংক্রান্তি, নগরে হরিনাম সংকীর্ত্তণ ইত্যাদি সহ অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। বৈশাখ মাসে শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের উদ্দেশ্যে অত্র গ্রামের মতুয়া ভক্তবৃন্দ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন বাড়িতে মতুয়া মহোৎসবের আয়োজন করে আসছেন।
গ্রামের এই ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখার প্রয়াস নিয়ে এ গ্রামের কয়েকজন ভক্ত নিজেদের আর্থিক অনুদান ও স্বেচ্ছাশ্রমে একটি স্থায়ী পুজা মন্দির স্থাপনের ইচ্ছা পোষণ করেন। এ উদ্দেশ্যে তাঁরা ২০০৪ সালে সমবেত হয়ে এবং যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক অনুদান একত্রিত করে ১.৬৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে এবং ঐ বছরই স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে বাঁশ ও টিনের একচালা একটি মন্দির স্থাপন করে সেখানে পূজাপার্বন ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি শুরু করেন। পরবর্তীতে নিজেদের এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদানে মন্দিরের আধাপাকা ভবন নির্মিত হয়। পরম করুণাময়ের আশীর্বাদে এখানে ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে এবং মন্দিরের উত্তরোত্তর উন্নতি হতে থাকে।
মাথাভাঙ্গা পুজা মন্দির শুধুমাত্র পুজাপার্বন অনুষ্ঠানের জন্যই নয় বরং এ প্রতিষ্ঠানটি এ গ্রামে সনাতন হিন্দু ধর্মের অস্তিত্ব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। এ প্রতিষ্ঠান মাথাভাঙ্গা গ্রামে বসবাসরত সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার সেতুবন্ধন রচনা করে এবং তাদের একতাবদ্ধ থাকতে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে অনুপ্রেরণা যোগায়। পুজা-পার্বন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কাজেরও অঙ্গীকার বহন করে।
Nice
হিন্দুদের মন্দির