মাহীসন্তোষ মসজিদ:
মাহীসন্তোষের বিভিন্ন অংশে এখনও অনেকগুলি প্রত্নতাত্ত্বিক সম্ভাবনাময় ঢিবি দেখতে পাওয়া যায়।১৯১৬ সালে বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি এই মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ যুক্ত ঢিবিটিতে উৎখনন করে। তখন মসজিদটির সামান্য অংশ উন্মোচিত হয়েছিল। এই প্রত্নস্থল উৎখনন করতে গিয়ে বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি একটি শিলালিপি আবিষ্কার করে। মসজিদে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, মসজিদটি সুলতান রুকনুদ্দীন বারবক শাহের আমলে ৮৬৭ হিজরিতে (১৪৬৩ খ্রি) নির্মিত এবং সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের আমলে এটি ৯১২ হিজরিতে (১৫০৬ খ্রি) পুনঃনির্মিত হয়েছিল।সুলতানি আমলের আরও বেশ কিছু সংখ্যক মসজিদ আবিষ্কারে মনে হয় যে, এ শহরটিতে বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল।
মাহীসন্তোষ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপকরণ কলিকাতার যাদুঘর, রাজশাহী বরেন্দ্র যাদুঘর এবং পাহাড়পুর যাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বিশাল এলাকাটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত, ঘন জঙ্গলে ঢাকা। চার-পাঁচটি মসজিদ, মুহম্মদ শিরাণ খলজীর সমাধিসৌধ এবং দুজন সুফি-দরবেশের সমাধিসৌধ সবই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত।
অতি সম্প্রতি স্থানীয় লোকজন জঙ্গল এবং মসজিদের ঢিবির ধবংসাবশেষ সরিয়ে ফেলে পুরানো মসজিদটির উপরে জুমার নামায পড়ার উদ্দেশ্যে নতুন একটি চৌচালা টিনের ছাদে আবৃত মসজিদ নির্মাণ করেছে।
এই জায়গার নাম মাহি সন্তোষ ধামুইর হাট থেকে পশ্চিমে ৬ কিলো দূরে বীরগ্রাম। বীরগ্রাম মোড় হতে ৭ কিলো উত্তরে এই মাজার অবস্থিত। শাহ্ সূফী কামেল হযরত তকিউদ্দিন আবারি (রাঃ) এর মাজার। এই সূফী পীর বার দুয়ারী মন্দিরকে মসজিদে পরিণত করেন। সেনাপতি শিরীন খিলজি নামে এক ১৪ হাত মানুষের কবর আছে এই মসজিদের পাশে।